শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ঢাকা দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয়, এটি দেশের জন্য লজ্জার : প্রধানমন্ত্রী • দেশে ফের বাড়ল ডলারের দাম • ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৪ • মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ • নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা • বিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন বাড়াতে চীনা ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর • দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে বাধা নয়, পুলিশের ওপর নজর রাখবে হাইকোর্ট • সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ • যুব উন্নয়ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ • ঢাকা থেকে দাম্মাম-রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হলেও এই ভোটে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ভোটাররা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন এবং ঠিক করবেন, আইন প্রণয়নকারী দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও এই নির্বাচন তার মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে জনমতের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন কী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। তবে কংগ্রেসের নির্বাচন হয় প্রতি দুই বছর পরপর। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বলে একে মিডটার্ম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। এ ছাড়া কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ অন্যান্য পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ নির্ধারিত হয় না। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকবেন। তবে কংগ্রেসে কোন দলের কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে বদলে যেতে পারে।

মার্কিন কংগ্রেস কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। উভয় কক্ষই ফেডারেল আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। তবে তাদের সদস্যসংখ্যা, নির্বাচনব্যবস্থা ও দায়িত্বে পার্থক্য রয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়। প্রতিনিধিদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতিটি কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনেই ভোট হয়।

অন্যদিকে সিনেটে মোট ১০০ সদস্য রয়েছেন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।

কোনো দলকে আইন প্রণয়নের নিজস্ব কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেলেই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয় না, আবার সিনেটে জয় পেলেও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয় না।

ট্রাম্পের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই নির্বাচন ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাকি সময়ে কংগ্রেসে কতটা সমর্থন পাবেন, তা নির্ধারণ করবে।

রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন পাসের পথ তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে নিজ দলের ভেতরের মতবিরোধও গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে বাধা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে প্রশাসনের আইন পাস করা কঠিন হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তদন্ত ও সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি ক্ষমতা দেবে।

অভিশংসন প্রক্রিয়াতেও দুই কক্ষের আলাদা ভূমিকা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসনের প্রস্তাব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এরপর সিনেট অভিশংসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে এবং কোনো কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরানো হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিরোধী দল কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলেই অভিশংসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হতে বা সম্পন্ন হতে পারবে না।

এ ছাড়া কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেলে সরকারি ব্যয়, করনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে আলোচনাও প্রভাবিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হারও কমেছে। জনমত জরিপভিত্তিক ওয়েবসাইট সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় তার জনপ্রিয়তার হার ৫০ শতাংশের কিছু বেশি ছিল। অক্টোবরের শুরুতে তা কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে ৬১ শতাংশ মানুষ তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।

ভোটাররা কী নিয়ে ভোট দেবেন

মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু ট্রাম্প ও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সরাসরি পছন্দের বিষয় নয়। ভোটাররা কংগ্রেসের পৃথক আসনের প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন। অনেক এলাকায় অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদেও ভোট হবে।

জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, শিক্ষা ও অর্থনীতির গতিপথের মতো বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

কেউ ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানাতে ভোট দিতে পারেন। আবার কেউ প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ভোট দিতে পারেন।

প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নিজ নিজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থানও ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।

তবে কোন বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা অঙ্গরাজ্য ও ভোটারদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পুরো দেশের জন্য একই ব্যালট নেই। একজন ভোটার কোন প্রার্থী বা পদে ভোট দেবেন, তা তিনি কোথায় বসবাস করেন তার ওপর নির্ভর করে।

ফলাফল কখন জানা যাবে

৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণ হলেও সেদিন রাতেই সব ফলাফল জানা নাও যেতে পারে। কিছু আসনের ফল দ্রুত পাওয়া গেলেও অন্যগুলোতে বাকি থাকা ব্যালট গণনা ও ফল যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে পুনর্গণনা বা আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা আরও দেরি হতে পারে।

কংগ্রেসে কোন দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পৃথক নির্বাচনের সম্মিলিত ফলের ওপর নির্ভর করবে। একটি দল একটি কক্ষে আসন বাড়াতে পারলেও অন্য কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নাও পেতে পারে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল বোঝার ক্ষেত্রে শুধু জাতীয়ভাবে মোট ভোটের সংখ্যা নয়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের প্রতিটি আসনের ফল আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz